ব্যবসায় শুরুর প্রথম ধাপগুলোর মধ্যে একটা হল ট্রেড লাইসেন্স হাতে পাওয়া। ব্যবসায় বৈধ ও আইনসম্মত হওয়ার জন্য আপনার ব্যবসায়িক এলাকার সিটি করপোরেশন বা সিটি কাউন্সিল থেকে আইনি অনুমতি এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার প্রচলিত পদ্ধতি খুব একটা জটিল নয়, তবে স্বচ্ছতার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে ঘুষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অতএব যদি আপনি ২,০০০ টাকা খরচ করেই ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে যাবেন বলে মনে করে থাকেন, তাহলে বলতে হবে আগে অতিরিক্ত অর্থের জন্য আপনার মানিব্যাগটা চেক করে দেখুন।

ট্রেড লাইসেন্স পেতে হলে ঠিক কত খরচ হয়, এই পোস্টটি লেখার জন্য আমি তা জানতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এমন কোন সঠিক তথ্য নেই। সুতরাং এই পোস্ট থেকে খুব বেশি কিছু আশা না করাই ভাল। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখানে থাকছে যা ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আপনাকে কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

ইতিহাস:
সিটি কর্পোরেশন কর বিধান, ১৯৮৩ (City Corporation Taxation Rules, 1983)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স-এর সূচনা ঘটে। যখন একজন উদ্যোক্তা লাইসেন্স ফরম-এর মাধ্যমে আবেদন করেন, তখন এটি ইস্যু করা হয়। আপনি এখান থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ ও এখান থেকে উত্তরের ট্রেড লাইসেন্স ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন।

প্রক্রিয়া:
পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে ব্যবসায়িক এলাকার সিটি কর্পোরেশন বা সিটি কাউন্সিল। লাইসেন্সপ্রার্থী ব্যক্তির জন্য একটি লাইসেন্স বিশেষভাবে ইস্যু করা হয় যা হস্তান্তরযোগ্য নয়। এই লাইসেন্সটি যে ধরণের ব্যবসায় বা পেশার জন্য ইস্যু করা হয়, সেই ব্যবসায় বা পেশা ছাড়া আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে লাইসেন্সটি ব্যবহার করা যাবে না। আঞ্চলিক কর কর্মকর্তার মাধ্যমে লাইসেন্সটি নিয়মিত নবায়ন করতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স ফরমে উল্লেখিত যেকোনো ব্যাংকে লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফী জমা দিতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

১. সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে: ভাড়ার রসিদ বা ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদের কপি।

২. ফ্যাক্টরি/কারখানার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে: ১ নং পয়েন্টে উল্লেখিত সব কাগজপত্র ছাড়াও আরও লাগবে:

  • পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা
  • লোকেশন ম্যাপ
  • ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের কপি
  • ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম-কানুন মেনে চলার অঙ্গিকারনামা
  • পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি

৩. ক্লিনিক/প্রাইভেট হাসপাতালের ক্ষেত্রে: স্বাস্থ্য বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল কর্তৃক অনুমতিপত্র।

৪. লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে:

  • কোম্পানির মেমোরান্ডাম অব আর্টিকেল
  • সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন

৫. প্রিন্টিং প্রেস ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে: ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অনুমতিপত্র।

৬. রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে: মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

৭. অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে: অস্ত্রের লাইসেন্স।

৮. ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে: ড্রাগ লাইসেন্সের কপি।

৯. ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে: সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

ব্যবসায় করা সহজ হওয়ার জন্য ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি হয়রানিমুক্ত হওয়া উচিৎ। কিন্তু তেমনটি হয় না।

এই প্রক্রিয়াকে হয়রানিমুক্ত করার জন্য আমরা কী কী করতে পারি? এ ব্যাপারে আপনার চিন্তা আমাদের জানান।