বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) গত বৃহঃস্পতিবার ২৪ নভেম্বর তারিখে জাতীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশে স্মার্টফোনে ট্যাক্সিসেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান উবার-এর কার্যক্রমকে প্রকারান্তরে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। দেশের প্রচলিত মোটরযান আইন অনুসারে উবারের কার্যক্রম বেআইনি, অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ – বিআরটিএ’র বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে উবার কি ভাবছে আমরা তা জানার চেষ্টা করেছি। তবে এখন পর্যন্ত উবারের কোন অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানি উবার টেকনো্কলজিস্ট ইনকর্পোরেশন বাংলাদেশেই প্রথম নেতিবাচক অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে এমনটি নয়। উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, সারা বিশ্বেই তারা কম-বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উবার সারা বিশ্বে ১৭৩ মামলা মোকাবেলা করছিল। উন্নত বিশ্ব থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উবার ট্যাক্সি কোম্পানি ও ক্যাব ড্রাইভারদের কাছ থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ পেয়ে এসেছে। কিন্তু এসব প্রতিরোধ ও বাধা কি উবারের কার্যক্রম বন্ধ করতে পেরেছে?

পারেনি, বরং উবারের গতি প্রায় অপ্রিতরোধ্য বলা যায়। বর্তমানে প্রায় ৪৫০ টিরও বেশি শহরে তাদের সেবা চালু আছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। শুধু এই তথ্যের দিকে তাকিয়ে বলা যায় বাংলাদেশেও উবারের যাত্রা সহসা থামবে না।

উবার কিভাবে এ সকল বাধার মুখে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায় সেটা সহজে অনুমেয়। উবারের সেবা মূলত স্মার্টফোন এপ্লিকেশন ভিত্তিক হওয়ায় সরকারি নজরদারি কার্যক্রম এর নিয়ন্ত্রনে প্রায়শই ব্যর্থ হয়। এছাড়াও উবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এরা খুব আক্রমনাত্মক কৌশলের আশ্রয় নেয়। যেসব সাংবাদিক উবারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন, উবার তাদের “নোংরা অতীত” জনসমক্ষে টেনে আনে বলে অভিযোগ আছে। আমেরিকার ভার্জিনিয়ার একজন সরকারি কর্মকর্তা উবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার পর উবারের ব্যবহারকারীদের কাছ অসংখ্য ফোনকল ও ইমেইল পান যেটা তার ব্যক্তিগত জীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

দেশে সোশাল মিডিয়ায় উবার এখন আলোচনার অন্যতম খোরাক। ই-কমার্স এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন উবার ব্যবহারকারী প্রশ্ন রেখেছেন বিআরটিএ যেখানে ঢাকার ক্যাব চালকদের দুর্ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, সেখানে উবারের কার্যক্রম নিষিদ্ধে তাদের এত কর্মতৎপরতা কেন। একজন জানিয়েছেন তিনি গুলশান একে এয়ারপোর্ট যাওয়ার জন্য উবারের সার্ভিস ব্যবহার করে মাত্র ৫ ক্যাব পেয়েছেন, যেটি সাধারন ক্যাবের বেলায় অকল্পনীয়। অর্থ্যাৎ চালু হবার মাত্র ৩ দিনের মাথায়ই উবার ঢাকার মধ্যবিত্তের মাঝে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ঢাকার সিএনজি ও ক্যাব চালকদের দৌরাত্ম্য কমাতে উবার সফল হবে এমন আশাবাদ থেকেই উবারের প্রতি এমন সমর্থন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

ফলে আপাতত বন্ধ হলেও খুব শীঘ্রই যথাযথ আইন মেনে আবার ঢাকাবাসীর কাছে সেবা নিয়ে আসবে উবার সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায়। প্রশ্ন হল, কত শীঘ্র উবার ফিরে আসছে? সময়ই এর উত্তর বলে দেবে।