দেশের বড় ও প্রতিষ্ঠিত মার্কেটিং এজেন্সিগুলো তাদের গতানুগতিক সেবার সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং সেবাও যোগ করছে, আর এতে বেশ শক্ত প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এই খাতের স্পেশালাইজড ডিজিটাল মার্কেটিং সেবাদাতা এজেন্সিগুলো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বিশেষায়িত এজেন্সিগুলো নতুন এবং ছোট থেকে মধ্যম আকারের প্রতিষ্ঠান।

এই সেবা খাতের সাথে জড়িত কয়েকজন জানান, মার্কেটিং সেবার এই খাত ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে, দেশের ব্রান্ড গুলোর মাঝে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রবণতা বেড়েছে। ফলে এডকম, এশিয়াটিক, মিডিয়াকম এর মতো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব সেবা দেয়া শুরু করেছে। তারা বিশেষজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগসহ নিজস্ব কর্মীবাহিনী তৈরিতে বিনিয়োগ করছে , যার ফলে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে ছোট আকারের ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

এছাড়াও নতুন যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এ যুক্ত হতে চাচ্ছেন, তারাও একধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। যে সকল ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এক প্রকারে এই খাতকে শুন্য থেকে আজকের এ অবস্থায় নিয়ে এসেছেন তাদের অস্থিত্বই এখন হুমকীর মুখে।

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন, ছোট থেকে মাঝারি আকারের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং একাধিক কোম্পানি ‘একীভূত’ হয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। সম্প্রতি ম্যাডলি ও স্ট্রাটগীক নামের দুটো এজেন্সি এধরনের একীভুত হওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে গেছে, যেটা তাদের পর্যবেক্ষনের সত্যতা নিশ্চিত করছে।

বিদ্যমান এজেন্সিগুলো কিভাবে এগিয়ে আছে?

মিডিয়াকম বা এশিয়াটিক এর মতো কোম্পানিগুলো বড় বড় ব্রান্ড ও প্রতিষ্ঠানের সাথে এর মাঝেই কাজ করছে। তারা তাদের প্রদত্ত সেবার সাথে নতুন করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেবাটি যুক্ত করছে। তাদেরকে নতুন সেবাগ্রহীতা খুঁজে বের করতে হচ্ছে না এবং বিদ্যমান ক্রেতাদের মাঝেই তারা সেবাটি দিচ্ছেন। এছাড়াও সেবা গ্রহীতা বড় প্রতিষ্ঠানগুলো একছাদের নিচে সব সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট।

অপরদিকে নতুন শুরু হওয়া ছোট আকৃতির এজেন্সিগুলো যারা শুধু মাত্র ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা দিচ্ছেন তারা বহুবিধ প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন। তাদের যেমন নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করতে হচ্ছে, তেমনি বড় ব্রান্ডগুলো পর্যন্ত পৌছাতেও তারা ব্যর্থ হচ্ছে।সবকিছু মিলিয়ে তারা বেশ প্রতিদ্বন্ধিতার মুখে পড়েছে।

কিভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করা যাবে?

এই নতুন বাস্তবতায় নতুন এবং ছোট আকারের বিশেষায়িত এজেন্সিগুলো কিভাবে টিকে থাকবে এ বিষয়ে জানতে আমরা স্ট্রাটগীকের সিইও সিদরাত তালুকদারের সাথে কথা বলেছি। এ সমস্যার মোকাবেলায় তিনি আরো বেশি মাত্রায় বিশেষায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। “আমার ধারণা ডিজিটাল মার্কেটিং দুইটি ভিন্ন ধারায় চলতে থাকবে। একধারায় অল্প সংখ্যক বড় ব্রান্ডগুলো বড় বড় এজেন্সিগুলোর সাথে কাজ করবে এবং আরেক ধারায় ‘শুধুমাত্র-ডিজিটাল’ এজেন্সিগুলো অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ও ব্রান্ডের সাথে কাজ করবে”, সিদরাত ব্যাখ্যা করেন। “এটাকে যদি একটা সরল রেখা হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে এর দুই প্রান্তেই অনেক বিশেষায়ন ও একীভূতকরন ঘটবে”, সিদরাত মন্তব্য করেন।

গীকি সোশ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইমুম হোসেন মনে করেন, ধারাবাহিকভাবে নতুনত্ব আনা এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানের মাধ্যমে টিকে থাকা ও বড় হওয়া সম্ভব। তবে একাধিক ব্যবসায়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া ও একীভূতকরনের ব্যাপারেও তিনি একমত।

ডিজিটালে রূপান্তর

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বড় ধরনের রদবদল হয়ে যাচ্ছে । স্থানীয় ব্যবসায়গুলো এই মাধ্যমের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং অনেকেই এখানে বিনিয়োগ করছে।

ধারণা করা হয় বর্তমানে দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং বাজারের আকার ১০০ কোটি টাকার মতো এবং এই আকার ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও এই বাজেটের একটা বড় অংশ ফেসবুক ও গুগলের পকেটে যাচ্ছে, তথাপি জি এন্ড আর ও আরআইটিএস এর মতো স্থানীয় এড-নেটওয়ার্কগুলো তাদের পাবলিশার সাইটগুলোত প্রতিমাসেই এক বিলিয়ন বিজ্ঞাপন পরিবেশন করে আসছে।

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন সাড়ে ৬কোটির মতো এবং মোট ১২ কোটি লোকের হাতে মোবাইল ফোন আছে। বলা যায় এটা বেশ বড় মার্কেট এবং ক্রমবর্ধিষ্ণু। এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ এবং ডিজিটাল দুনিয়াই যেন এদের ঘরবাড়ি। ফলে ধরে নেয়া যায় আগামীদিনের মার্কেটিং এর একটা বড় অংশ হবে ডিজিটাল এবং সবার জন্য অনেক পুরষ্কার অপেক্ষা করে আছে।

সম্পাদনা: নাজমুল হাসান