অল্প কিছু পণ্য নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিলো খাস ফুডের। মধু, দুধ ও কয়েক ধরনের মশলা নিয়ে ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে মার্কেটে প্রবেশ করে নিরাপদ গুণগত মানের নিশ্চয়তা দিয়ে। ঢাকা ভিত্তিক স্টার্টআপটি ফেইসবুকে সফলতার মুখ দেখার পর ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে পণ্য ডেলিভারি দেয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে কয়েক বছরের মধ্যেই ফেইসবুক পেইজ এবং ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে নিজেদের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এবং বাংলাদেশের খাদ্য কোম্পানী হিসেবে নিজেদেরকে দেখার জন্য পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন শুরু করে।

বেশিরভাগ কোম্পানীই যারা অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা করে তারা অভিনিবেশ করে ডিজিটাল পরিচয়ে নিজেদেরকে পরিচিত করতে। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খুব দ্রুতই তাদের অপ্রত্যাশিত কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। মার্কেট পরিণত হতে থাকলে নতুন নতুন বড় কোম্পানী ছোট কোম্পানীর তৈরিকৃত মার্কেটে হানা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু খাস ফুড সেই সমস্যার মুখোমুখী হতে অনিচ্ছুক। খাস ফুডের চেয়ারম্যান হাবিবুল মুস্তফা আরমান খাস ফুডের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা শেয়ার করেছেন। যেখানে তিনি বলেছেন কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা।

“আমরা আসলে ই-কমার্স কোম্পানীর চেয়ে খাদ্য কোম্পানী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এবং সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।“ বলছিলেন মিঃ মুস্তফা। “আমাদের দীর্ঘ-কালীন পরিকল্পনা হচ্ছে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ফুড বিজনেস দাড় করানো যেখানে ই-কমার্স হবে একটি ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল। কাস্টমারদেরকে আরো ভালো সার্ভিস দেওয়ার উদ্দেশ্যে আধুনিক ডিস্ট্রিবিউশন পদ্ধতি প্রয়োগ করায় অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছি। এবং ভবিষ্যতে এটা হতে পারে ই–কমার্স সাইট ও আউটলেটের সমন্বয়ে। “

শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন গড়ার নেপথ্যেঃ

বড় স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে খাস ফুড ইতোমধ্যেই ঢাকা শহরে পাঁচটি গুদাম ঘর নির্মাণ করেছে। এই উদ্যোগ পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমকে প্রসারিত করায় সহযোগিতা করছে। মিঃ মুস্তফা বলেন “আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে অনলাইন এবং অফলাইন রিটেইলিং স্টোরের সংযোগে এমন একটি চ্যানেল তৈরি করা যা কাস্টমার সেবায় অদ্বিতীয় হবে। শুরুটা করবো রাজধানীতে স্টোর নির্মাণের মাধ্যমে এবং অবশেষে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।“

সাপ্লাইয়ারদের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনে বিনিয়োগঃ

উৎপাদন ও সাপ্লাইয়ারদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য খাস ফুড বিনিয়োগ করে চলছে।  কারণ সাপ্লাইয়ারদের উপর নিয়ন্ত্রণ ব্যতিরেকে কাস্টমারদের কাছে নিরাপদ পণ্যের যে প্রতিজ্ঞা তারা করেছে সেটা পূর্ণ করা সম্ভব নয়। “আমরা পরিপূর্ণ মনোযোগ দিয়েছি আমাদেরকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকারী এবং সরবরাহকারী হিসেবে পজিশনিং করাতে।“ মিঃ মুস্তফা শেয়ার করেন।

আমরা যেন কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্য ডেলিভারি করতে পারি সেজন্য আমাদের সরবরাহকারীদের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন

“ আমরা যেন কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্য ডেলিভারি করতে পারি সেজন্য আমাদের সরবরাহকারীদের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। এজন্য আমরা কয়েকটি উৎপাদনে বিনিয়োগ করা শুরু করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একটি ডেইরি ফার্মে বিনিয়োগ করি যারা এতদিন পর্যন্ত আমাদের সাপ্লাইয়ার হিসেবে কাজ করতো। আমরা তাদের পণ্যের গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু আমাদের খাঁটি দুধের চাহিদা বাড়তে থাকলেও তাদের উৎপাদন বাড়ছিলো না। আমরা তাদের পাশে দাড়াই এবং বিনিয়োগ করি। ইতঃপূর্বে তাদের মাত্র তিনটি গাভী ছিলো এখন যেখানে তেইশটির মত। তারাও ব্যবসা বড় করার সুযোগ পেয়েছে আমরাও।

আমাদের খাঁটি দুধ কোয়ালিটির জন্যই মার্কেটে সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। এইতো কিছুদিন আগেই চালডাল ডট কমের কাছ থেকে কল পাই। তারা চাচ্ছে আমাদের দুধের আইটেমটাও তাদের প্রোডাক্ট লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করতে। তারা চেয়েছিলো কোয়ালিটি দুধ পেতে আর তাদের কাছে মনে হয়েছে আমরাই এক্ষেত্রে সেরা। এবং আমরা তাদের সে বিশ্বাস টিকিয়ে রাখবো।

ডেইরি ফার্মের পাশাপাশি প্রাকৃতিক মধু সাপ্লাইয়ার এবং মৌসুমি ফল সাপ্লাইয়ারদেরও পাশে দাড়িয়েছি বিনিয়োগের মাধ্যমে। সেটার ইতিবাচক ফলাফল আমরা ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করছি। এই ধারা আমরা বজায় রাখতে আগ্রহী।

ভবিষ্যতে আমরা বিশেষভাবে ফোকাস করবো আমাদের নিজেদের উৎপাদনাগার বৃদ্ধিতে। সেই সাথে সাপ্লাইয়াররাও যেন শক্তিশালী হয় সেদিকেও খেয়াল রাখবো। আম রা সাপ্লাইয়ারদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকি। ভবিষ্যতে তাদের সাথে আরো অটুট বন্ধনে নজর দিবো। কারণ তাদের সাথে ভালো সম্পর্কই আমাদেরকে ঈর্ষান্বিত কাস্টমার সার্ভিস সরবরাহে সাহায্য করে। তাদের ছাড়া যেটা কক্ষনোই সম্ভব ছিলোনা।“