যদি আপনি একজন উদ্যোক্তা হন বা হতে চান তবে  ব্যর্থতাকে স্বীকার করা এবং লার্নিং গুলোকে পর্যাপ্তভাবে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু এছাড়াও কিছু ব্যাপার আছে যেগুলোর প্রতি সফলতার স্বাদ পেতে উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য আমরা কিছু নির্দেশনা অথবা পরামর্শ দিচ্ছি।

পরিস্থিতি যেমনই হোক, গ্রহণ করতে শিখুনঃ

ব্যর্থ হওয়া উদ্যোক্তা হিসেবে জাহির হওয়ার প্রাথমিক ধাপ। এমনকি বিল গেটসও তার ব্যর্থতাকে স্বীকার করে বলেছেন ব্যর্থতার ,মাঝে  লার্নিংয়ের বিষয়টাও জড়িত। একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। গ্রহণ করতে শিখুন এই ব্যর্থতাকে ব্যর্থতা হিসেবে। নৈতিক বিজয় হিসেবে ব্যর্থতাকে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বলের জিলেট তিন হাজার ঘণ্টা ব্যয় করিয়ে এম আই টির শিক্ষার্থীদের দিয়ে একটি রেজরের ডিজাইন করায়। যার নাম ছিলো ভেক্টর। এত সময় বিনিয়োগ করেও ২০০২ সালে বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এখানে পারিপার্শ্বিক ভাবনা হচ্ছে আপনি শুধু মাত্র ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতেই শিখবেন না বরং এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যর্থতাকে আবদ্ধ রেখে সেটাকেই ভিত্তি হিসেবে দাড় করিয়ে সফল হবেন। এটা শেষ করে মনোযোগ দিবেন পুনরায় একই জিনিশ ভালো ভাবে করার দিকে। নতুন কিছু করার চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলুন। ব্যর্থতা থেকে যে অভিজ্ঞতা এসেছে সেটাকে কাজে লাগান। এবার আপনি সফলতার অনেকটাই কাছে। কারণ আপনার ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নম্রতা বজায় রাখুনঃ

যখনই আপনি সফলতার মুখ দেখবেন, তখন অবশ্যই সফল হওয়া থেকে যে সুযোগ গুলো পাচ্ছেন সেটাকে কাজে লাগান। এক্ষেত্রে নম্রতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ স্টার্টআপ ভেঙ্গে পড়ে প্রতিকূলতা মোকাবেলায় নিজেদের প্রতি উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় এবং নিজের প্রতি অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ায়। আপনার অবশ্যই বাস্তবমুখী হতে হবে। সফলতা এবং আশাবাদী হওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখতে হবে। আপনার কখনোই সফলতা এবং অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজে নামা উচিৎ না। কারণ এটা আপনাকে বাস্তবতা থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করবে।

একজন বিনয়ী নেতা তার কাস্টমার এবং কর্মচারী কর্তৃক সমাদৃত হবে সবসময়। একজন উদ্যোক্তা যদি বিনয়ী হয়, সে অনেক দ্রুত বড় হতে এবং রিস্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ সে নতুন নতুন আইডিয়া ধারণ করতে সক্ষম হয় যা তাকে দৈনন্দিনের সমস্যার সমাধান সাহায্য করে। এখানে সফলতা ও আত্মবিশ্বাসের মাঝে বিভাজনের দায়িত্ব আপনার উপরই। সফলতা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে আবার আপনার আত্মবিশ্বাস সফলতার দিকে ধাবিত করবে। কিন্তু কখনোই সফলতা আপনাকে যেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না করে তুলে।

সুখের খোঁজেঃ

নিঃসন্দেহে সফলতা আপনাকে হ্যাপিনেস দিবে। কিন্তু যদি আত্মবিশ্বাস এবং সফলতার অশোভনীয় ব্যবহার সেই হ্যাপিনেসটাই নষ্ট করে দেয়? এটা থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় হচ্ছে সেই বিষয় গুলোর দিকে নজর দেওয়া যা আপনি সবসময় করতে চান । মনোযোগ দিন আপনার বিজনেসে সফল হওয়ার লক্ষ্যের দিকে ।  এটা হতে পারে বই পড়া, কোথাও ভ্রমণে যাওয়া অথবা পার্টি করা। একটা সুখি মন সবসময়ই মোটিভেটেড থাকে। কেবল ব্যবসায়ে সফল হওয়া হ্যাপিনেস আনতে পারেনা। এক্ষেত্রে আপনার অনেক বেশি বুদ্ধিমান হতে হবে সেই হ্যাপিনেস ফ্যাক্টর গুলো খুঁজে বের করতে। এমনকি সেটা বিজনেসে সফল হওয়ার আগেই। যাতে যখনই প্রেরণা কমে দমে যাওয়ার অবস্থায় পতিত হবেন, তখনই হ্যাপিনেস ফ্যাক্টর গুলো কাজে লাগান।