সারা বিশ্বে বায়োট্রেড বা টেকসই গাছপালা ও প্রাণিজ সম্পদের বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি আঙ্কটাড প্রকাশিত এক নতুন রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালে বায়োট্রেডের রপ্তানিমূল্য ছিল ৪০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বলা হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, কারণ পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা ও ক্রেতাদের মানসিকতা এই প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে। “বায়োট্রেড: কানেক্টিং পিপল, প্লানেট এন্ড মার্কেট” শিরোনামের রিপোর্টে বলা হয়েছে এর কারণে যেমন চাকরি বাজার বড় হচ্ছে, তেমনি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তা সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

আঙ্কটাড সেক্রেটারি মুকিশা কুতুয়ি বলেন, “আমাদের চারপাশের বৃক্ষ ও প্রাণিজ সম্পদের ব্যাপারে কমার্শিয়াল সেল্ফ ইন্টারেস্টের ধারনা প্রয়োগ করায় নতুন চাকরি বেড়েছে, আয় বেড়েছে।তাছাড়া বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষায়ও এটা ভূমিকা রাখছে।”

“উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচুর জৈবসম্পদ আছে, কিন্তু তারা এই সুযোগটি হাতছাড়া করছে”, ড. কুতুয়ি জানান।

রিপোর্টটি জানায়, বায়োট্রেডকে নীতিগতভাবে অনুপ্রাণিত করার ফল দারুন, এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি সফলতার গল্প তুলে এনেছে।

উত্তর পশ্চিম ভিয়েতনামে জাও কমিউনিটির লোকেরা স্থানীয় ফসল চে দে (ampelopsis cantoniensis) বিক্রি করে তাদের আয়কে প্রায় দ্বিগুন করতে পেরেছেন। ট্রাফাকো নামের একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে তারা এই গাছ বিক্রি করেন। সাধারণত স্থানীয় লোকজন হজম সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে এই গাছটি ব্যবহার করতো। এখন দেখা যাচ্ছে ট্রাফাকো’র গ্যাস্ট্রিক ও অন্ত্রের ফুলে যাওয়া রোগের জন্য সবচেয়ে সফল পণ্যটির মূল উপাদান এই গাছ।

ইকুয়েডরে উইকিরি নামের আরেকটি ছোট বায়োট্রেড কোম্পানি ব্যাঙ চাষ করে। এসব ব্যাঙ স্কুল কলেজ ও সৌন্দর্য বর্ধনের উপকরণ হিসেবে বিক্রি হয়। ব্যাঙ চাষ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধরনের প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যেটা ব্যবহার করে বিপদাপন্ন ব্যাঙের জাত বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

বায়োট্রেডের এই সুফল ঘরে তুলতে হলে নীতি নির্ধারকদের এমন ভূমিকা রাখতে হবে যাতে নতুন নতুন পণ্য বাজারজাত করন সহজ হয়। নন-ট্যারিফ বাধা দুরিকরণ, সহজ অর্থায়ন, ছোট ব্যবসায়ের জন্য সাপোর্ট, সাপ্লাই চেইন সুবিধা এসব বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে বায়োট্রেড সহজিকরণ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে বানিজ্যিক ভিত্তিতে কুমির ও সাপ চাষের মতো বায়োট্রেডের কিছু সফল উদাহরন আছে।