নির্ঝর আনজুম

দারাজকে আলিবাবা কিনে নেওয়ার পর থেকেই শুনা যাচ্ছে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্ট আসি আসি করছে। হয়তো তারাও খুব দ্রুতই এদেশে বিজনেস শুরু করবে। কিন্তু আমাদের দেশে ইন্টারনেট যখন মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে তখন এদেশের তরুণদেরই সুযোগ আছে তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার। ইতোমধ্যেই হাজারো তরুণ অনলাইনের মাধ্যমে বিজনেস দাড় করিয়ে সফলতার স্বপ্ন বুনছে। খুব সহজে একটু খানি সাহস নিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার বিজনেসটি। সেই সুযোগ আপনাকে আধুনিক প্রযুক্তি এনে দিয়েছে। নিজেকে বদলাতে পারেন আপনিও। কিভাবে আপনি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন সেই ধাপ গুলোই আপনাকে জানাচ্ছি আমরা।

পরিকল্পনা করুন সময়  নিয়ে

আপনার ই-কমার্স ব্যবসাটি যেহেতু ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হবে, তাই কখনই ওয়েবসাইট তৈরির ব্যাপারে তাড়াহুড়া করবেন না। কম খরচে কম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করে পরে দেখবেন সেই ওয়েবসাইটে হয়তো আপনার ব্যবসা করার উপযোগী ফিচার তৈরি করার সুযোগ হচ্ছে না, বা হয়তো দেখবেন আপনার ওয়েবসাইটটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে, কিংবা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফিচার ঠিকমতো কাজ করছে না। তখন ওয়েবসাইটটি ফেলে দিয়ে নতুনভাবে তৈরি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই, সময় নিন, প্লান করুন, শুধু আজকে না, ভবিষ্যতে আপনার ওয়েবসাইটে কী কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আনতে চাইছেন সেগুলোর প্লান করুন এবং এখনই তৈরি না করলেও ভবিষ্যতে সেগুলো করবার সুযোগ রাখুন।

সতর্ক হোন ওয়েবসাইট তৈরির টেকনোলজি নির্বাচনে
মাঝারি বা বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির জন্য পিএইচপি টেকনোলজি ব্যবহার করা ভালো, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই র-পিএইচপি-তে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন না কারণ, তাতে পরবর্তীতে ওয়েবসাইটে পরিবর্তন আনা ও মেইন্টেইন করা মুশকিল হয়ে পড়ে এবং সিকিউরিটি রিস্কও বেশি থাকে।
আপনার ব্যবসার মডেল যদি গতানুগতিক ই-কমার্সের মতো হয় তাহলে সিএমএস যেমন মাজেন্টো বা ওপেনকার্ট, আর আপনার ব্যবসার ধরন যদি গতানুগতিক ই-কমার্সের মতো না হয়ে একটু ভিন্ন ধাচের হয় তাহলে কাস্টোমভাবে তৈরির জন্য ভালো কোনো ফ্রেমওয়ার্ক যেমন লারাভেল বা কোডইগনাইটার ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব টেকনোলজিতে ওয়েবসাইট তৈরি করলে আপনার ওয়েবসাইট আপগ্রেড ও ম্যানেজ করা অনেক সহজ হয়। তাছাড়া অন্যান্য টেকনোলজির তুলনায় এসব টেকনোলজিতে কাজ করে এমন মানুষ পাওয়াও সহজ হয়। এসব সিএমএস ও ফ্রেমওয়ার্কগুলো নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।

ওয়েবসাইটের ডিজাইন পরিকল্পনা
ওয়েবসাইট ডিজাইন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে ডিজাইনটি যেনো খুব সুন্দর হয়, কিন্তু অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার বা জটিলতা না থাকে। পাশাপাশি, অনলাইনে কেনাকাটার পুরো প্রসেসটি যেনো খুব সহজ হয়। যতো কম ক্লিকে আপনি কাস্টোমারকে আপনার পণ্যগুলো দেখা থেকে শুরু করে অর্ডার সাবমিট করার পর পেমেন্ট করা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন ততো আপনার ওয়েবসাইটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। আপনার ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রেশন বা অর্ডার ফর্মে যতো কম তথ্য টাইপ করতে হবে কাস্টোমার ততোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
আপনার ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে হাই কোয়ালিটির ইমেজ। পণ্যের ছবি, ব্যানার এবং ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা ছবি যতো সুন্দর, স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় হবে কাস্টোমার ততো বেশি আকৃষ্ট হবে।

ওয়েবসাইটের ফিচার ও ফ্যাসিলিটি নির্ধারণ করা
সব ই-কমার্স ওয়েবসাইটেই প্রোডাক্ট থাকে, কেনাকাটা হয়, অনলাইনে পে করা যায়, ডেলিভারিও পাওয়া যায়। তাই শুধু এগুলো থাকলে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটকে কাস্টোমারের কাছে বিশেষভাবে তুলে ধরতে পারবেন না। আপনার চাই ইউনিক কিছু ফিচার ও ফ্যাসিলিটি:
•    কাস্টোমার যেনো সুন্দরভাবে অনলাইনে শপিং করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনে ওয়েবসাইটে শপিং প্রসেসের ভিডিও রাখুন, যেনো কাস্টোমার প্রথমবার আসার পর কীভাবে শপিং করতে হয় তা সুন্দরভাবে বুঝে যেতে পারেন।
•    কাস্টোমারকে ডিস্কাউন্ট কুপন অফার করুন।
•    অর্ডার করার পর কাস্টোমারকে মেইল এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে পেমেন্ট বা অর্ডারের কনফার্মেশন দিয়ে তাকে আপনার উপর আস্থা রাখতে সাহায্য করুন।
•    কাস্টোমারকে তার কেনাকাটার উপর পয়েন্ট দিন, যেনো পরে তিনি এই পয়েন্টের বদলে আপনার কাছ থেকে পণ্য বা উপহার পেতে পারেন।
•    রেজিস্ট্রেশনের সময় কাস্টোমারের জন্মতারিখ নিয়ে নিন এবং পরে তার জন্মদিনে গিফট পাঠান। দেখবেন, আপনার ষ্টোরের প্রতি তার বিশেষ ধরনের আগ্রহ জন্মাবে।
•    অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর ব্যবস্থা চালু করুন। আপনার প্রোডাক্ট অনলাইনে কিনতে কেউ যদি অন্যদেরকে রেফার করে, তাহলে যিনি রেফার করলেন তাকে ক্যাশব্যাক অফার করুন।

কাস্টোমার সাপোর্টের ভালো ব্যবস্থা করা
কাস্টোমারকে শপিং-এর জন্য সব ধরনের সাহায্য করা আপনার দায়িত্ব। আপনি কাস্টোমারকে যতো বেশি সাপোর্ট দেবেন, কাস্টোমার ততো বেশি আপনার স্টোর থেকে কিনতে পছন্দ করবেন।
•    অর্ডার করার সময় কাস্টোমার যেনো আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, আর পণ্য বা ডেলিভারি সম্পর্কে জানতে পারেন- সেজন্য ওয়েবসাইটেই চ্যাটিংয়ের ব্যবস্থা রাখুন
•    অর্ডার সাবমিট হওয়ার পর কাস্টোমারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন এবং তার অর্ডার প্রসেসটি সুন্দরভাবে শেষ হতে সাহায্য করুন
•    কাস্টোমার যদি পেমেন্টের পর অর্ডার বাতিল করে, তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব তার পেমেন্ট রিটার্নের ব্যবস্থা করুন। আপনি হয়তো ভাবছেন, কাস্টোমার তো কিনছেই না, দেরিতে পেমেন্ট রিটার্ন হলে কী-ই-বা ক্ষতি। কিন্তু কাস্টোমার যদি দ্রুত রিটার্ন পান, দেখবেন পরবর্তীতে তিন আবার অর্ডার করার সাহস এবং আগ্রহ পাবেন।

আপনি শুরু করতে পারেন ক্ষুদ্র কোন পণ্য নিয়ে। হয়তো সেটাই একসময়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিবে। ব্যবসায়ী হওয়ার এইতো সুযোগ।  এসুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।