ইন্টারনেট ও ইকমার্স ব্যবসা পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে চাইলে অবশ্যই তাদেরকে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটা অনেক বেশি জরুরী এবং ক্রেতাদের অধিকার রক্ষা ও সাইবার অপরাধ দমনের মাধ্যমেই তা অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আঙ্কটাডের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শতকার প্রায় ৫০ ভাগ জনগন ইন্টারনেটের আওতার বাইরে আছে। আফ্রিকায় এই হার প্রায় শতকার ৭৫ ভাগ। ইন্টারনেট ইকমার্সের প্রাণস্বরুপ, তাই এটি একটা বিশাল বাধা হয়ে দাড়িয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ইকমার্স চাকরি ও আয়ের একটি বিরাট উৎস হতে পারে। এটি দ্রুত বর্ধনশীল খাত হিসেবে সারা বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছে। ২০১৩ সালে সারা বিশ্বের ইকমার্স বাজার ছিল ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের, যেটা ২০১৫ সালে সেটি ২২ ট্রিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে। এর মাঝে ই-কমার্স কমোডিটি মার্কেটের চেয়েও নির্ভরযোগ্য খাতে পরিনত হযেছে। সারাবিশ্বে ট্রেডিং ব্যবসায়ে মন্হর গতির কারণে উৎপাদনশীল খাতও মন্থর হয়ে আছে। সে হিসেবে ইকমার্স প্রবৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিন হতে পারে।

আঙ্কটাড কর্মকর্তা ক্রেতার আস্থা বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। “ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এমন সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে যেন ক্রেতারা অনলাইনে কেনাকাটায় নিরাপদ বোধ করে এবং বাজারের নিয়ন্ত্রন যেন ভোক্তাদের হাতে থাকে”, এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রেতারা অনলাইনে প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমে দাম পরিশোধে বিশেষভাবে অনিচ্ছুক ও অনিরাপদ বোধ করেন এবং তুলনামূলকভাবে ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি বেশি পছন্দ করেন। ক্যাশ অন ডেলিভারির কিছু সুবিধা থাকলেও দেশের ইকমার্সকে তার যোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে আরো সহজ পেমেন্ট ও ভোক্তার আস্থা অর্জন করা দরকার। এই ইন্ডাস্ট্রির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাই জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের উপর জোর দিচ্ছেন।