গত এক বছরে আমি চারটা ভিন্ন প্রতিষ্ঠান শুরু করার চেষ্ট করেছি। ইনফ্যাক্ট শুরুও করেছিলাম। কিন্তু চারটার মধ্যে মাত্র একটা এখনও খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। বাকি তিনটা ফেল মেরেছে। কেন মেরেছে এটা খুঁজে বের করাকে আমি নিজের দায়িত্ব মনে করি। আর তার নিমিত্তে আমি খুঁজে বের করার একটা হা্লকা চেষ্টা করেছিও। তার একটা সাদামাটা বর্ণনা দেবার একটা চেষ্টা আমি করব এই সিরিজে। এটা একান্তই ব্যাক্তিগত আর এখানে আমি আশা করছ অনেক ভারি কথা -বার্তা থাকবে না। 

এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দ্যেশ্য মহানঃ এক, একটু ভাব নেয়া! যে বয়স কম হলে কি হবে আমি অনেক ঘাটের জল না খেলেও ঘোলা ঠিকি করেছি। দুইঃ আমি করেছি করেছি আপনিও একি ভুলের কারনে ডুববেন আমার ভাবতে একটু কষ্ট হচ্ছিল।

চলুন শুরু করা যাক। আমি প্রথম ভুলটা করেছিলাম মানুষ পছন্দ করার ক্ষেত্রে। যে কোন স্টারট আপের কেপিটাল, মুলধন, যাই বলেন সেটা হল মানুষ। এই খানে যদি ঘোল পাকান তাইলে আপনে ধরা। আমি পাকাইছি। তিনটাতে ধরা খাইছি, একটা মারা যাচ্ছে। কি ধরনের মানুষ নিয়া ধরা খাইছি, কেমনে খাইছি এইসব আমি বলতেই পারি কিন্তু বলুম না। বলুম না এই কারনে, এর চে জরুরি কিছু বলতে চাই। সেটা কি? সেটা হইল আমি যে ভুলগুলা করেছি তা কেমনে না করা যায় তার একটা মোটামোটি বোধগম্য ধারনা আমি ঠিক করেছি। তা নিম্নে বরনিত হইলঃ

১। প্লেটোর রিপাবলিকে কবিদের কোন স্থান নাই। সুতরাং স্টারট-আপে বুদ্ধিজীবির কোন দরকার নাই। কথা কম কাজ বেশি। আপনার কোন টিম মেম্বার কি বেশি কথা বলে, তারে বলেন অফ যাইতে না যাইলে ফালাইয়া দেন।

২। একই ধরনের লোক নিবেন না। সবাই দুনিয়া বদলাইতে চাইলে, আপনার স্টারটাপের চেহারা বদলাবে না। বিভিন্ন কেট্যাগরির লোক নেন। ভাল হয় আপনি যা পারেন না তা যদি আপনার পারটনার পারে, যেটারে ইংরেজিতে বলে “কল্পলিমেন্টারি স্কিল”। কিছু গাল বাজ, কছু কামবাজ, কিছু ফাকিবাজ জোগাড় করেন। তাদেরকে এক জায়গায় রাখেন। দেখবেন কিছু দিন পর তারা এমন এক মিক্স বানাইছে সব পাল্টাইয়া গেছে।

৩। নেতা থাকবে একজন অথবা সবাই। মানে হইল সবাই নেতা সবাই ফলোয়ার। আহা লিডারশিপ কি এক বস্তুতে পরিনত হইছে এই দেশে সবাই খালি নেতা হইতে চায়। সবাই কেমনে নেতা হইতে হয় তার উপর মোটামোটি ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষ অজ্ঞ হইয়া গেছে। নেতা হইতে চাইলে বাতিল। প্রজা হইল গিয়া এখন দরকারি জিনিস।

৪। এমন কাউকে নিয়েন না যে আসলে আগ্রহি না কিন্তু আপনি বলছেন, আপনি তার ভাল বন্ধু তাই বলছে সে আপনার সাথে আছে। যারা আগ্রহি, যারা সত্যিই তাদের সব কিছু দিয়ে এই ভেঞ্ছারকে দাড়া করাতে চায় তাদের খুজে বের করুন এবং সাথে নিন। শুরু সময় মালিকানার সাথে শরত দিন দিনে এতক্ষন কাজ করতে হবে। এইসব “কে পি আই” পুরন করতে হবে যাকে ইংরেজিতে বলে “কি পারফরমেন্স ইন্ডিকেটর”। যদি বার কয়েক ফেল মারে তারে রেড নোটিশ ধরায়া দেন।

৫। যত গুলা লোক নিবেন তার চেয়ে একটু বেশি দিয়া শুরু করেন। দেখবেন অনেক খুব আগ্রহি থাকবে না আবার অনেক অতি কম আগ্রহি থেকে যাবেন। ভালবাসা মাঝে মাঝে জন্মাইতে টাইম লাগে। আবার মাঝে মাঝে ইনফেচুয়েশানকেও প্রেম মনে লয়।

৬। যদি বন্ধু হয়, সঙ্গে নিয়েন না! এদের না আপনি কিছু বলতে পারবেন না তারা কিছু করবে। হে, যদি আপনি শুরু থেকে একটা পেশাদারিত্ব দেখাতে পারেন তাইলে বন্ধু, শত্রু যাই নেন নো প্রবলেম।

৭। ঝালাই করার ব্যবস্থা করেনঃ আমার এক পরিচিত উদ্যোক্তা প্রথম দুই মাস ম্যানেজমেন্ট টিমের কাউকে একটা পয়সাও দেয় নাই, শুধু দেখার জন্যে কে কি করে। কে থাকে কে চলে যায়। এই পদ্ধতি খুব একটা খারাপ না। যদি হয় সজন তেতুল পাতায় নজন। যদি সজন না হও তাইলে ভাগ!

যদি ভালবাসা না থাকে তাইলে আলাদা হয়ে যাওয়াটাই ভাল। যদি না হয় তাইলে আপনে নিজে করে দেন! কাজের লোক নেন। লোক নেন যারা আসলে আপনি যা করতে চান তা বুঝে, তা করতে চায়, বিনা বাক্যে, বাক্য ব্যয় করলেও ক্ষতি নাই, যদি কাজ করে। যারা খালি আমি এটা করি, ওটা করি বলার জন্যে আপনার সাথে আসছে তাদের বলেন এই খানে খাওয়া নাই। যারা আপনি যা বলবেন তা অন্ধভাবে না শুনলেও অন্তত দেখে শুনে শুনবে। যাদের এত বেশি ইগো নাই, নাই ফলো করাতে কোন লজ্জা। যারা কিছু একটা করতে চায়। তদের সাথে নেন। বেশি বুঝে, বেশি জানে এরাম পাবলিক নিবেন না। আরো নিবেন না, না এদ্বার না ওদ্বার টাইপদেরও। চলেন সব পাল্টে দেই।